২০২৬ সালে কমতে পারে বিশ্বব্যাপী ইভি বিক্রির প্রবৃদ্ধি

বিশ্বব্যাপী বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নিবন্ধনে গত বছর ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও চলতি বছর এ গতি কমে আসতে পারে।

বিশ্বব্যাপী বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নিবন্ধনে গত বছর ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও চলতি বছর এ গতি কমে আসতে পারে। বিশেষ করে চীনে ইভি চাহিদার ধীরগতি ও বিশ্বজুড়ে গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করায় বাজারে এ মন্দা ভাব দেখা দিতে পারে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর গত ডিসেম্বরেই ইভি বিক্রির প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে কম। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক মিনারেল ইন্টেলিজেন্সের (বিএমআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

বিএমআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইভি কেনার ক্ষেত্রে চালু থাকা কর ছাড়ের মেয়াদ গত অক্টোবরে শেষ হয়ে যায়। এর প্রভাবে উত্তর আমেরিকায় ব্যাটারিচালিত ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির নিবন্ধন আরো কমেছে বলে মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য ব্যবস্থাপক চার্লস লেস্টার বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে নীতিমালার বড় ধরনের পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী ইভি বাজারকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে এসেছেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও কার্বন নিঃসরণ সংক্রান্ত কঠোর নিয়মগুলো শিথিল করেছে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে পুরো বাজার এখন অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।’

ইউরোপে ইভির বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং চীনে চাহিদা কমে আসায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরো তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যারা কাজ করছেন এবং গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ বাড়ছে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে সোচ্চার ব্যক্তি ও সংস্থাগুলো জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিষাক্ত গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে গাড়ি নির্মাতাদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু করলে মুনাফা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে কোম্পানিগুলো।

বিএমআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে বিশ্বজুড়ে ইভির নিবন্ধন মাত্র ৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২১ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে মোট ২ কোটি ৭ লাখ ইউনিট ইভি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে চীনেই বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ইউনিট।

উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্বে মোট বিক্রিত ইভির ৭১ শতাংশই উৎপাদন করেছে চীন। তবে দেশটিতে গত ডিসেম্বরে এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে কম।

উত্তর আমেরিকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে সেখানে ইভি নিবন্ধন ৩৯ শতাংশ কমে মাত্র এক লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবর ও নভেম্বরেও অঞ্চলটিতে একই ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। গত বছরজুড়ে উত্তর আমেরিকায় ইভি বিক্রি ৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ সময় ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ইভি বিক্রিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ইউরোপে গত ডিসেম্বরে ৩৩ শতাংশ এবং বিশ্বের বাকি অংশে ৪৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

বিএমআইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ ইউনিট ইভি বিক্রি হতে পারে। প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশে। চীনে প্রবৃদ্ধি ২১ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ইউরোপে তা কমে ১৫ শতাংশে নামতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে উত্তর আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রে ইভি বিক্রি ২৯ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় পুরো উত্তর আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি ২৩ শতাংশ কমতে পারে।

আরও